ব্যাপারটা রূপকথার মতােই। কোনাে এক জোড়া সিঁথি নদীর তীর। তীর ঘেঁষে এক রাজপ্রাসাদ। রাজপ্রাসাদের একটা বৃহৎ জানালার পাশে এক রাজকন্যা দাঁড়িয়ে আছে। রাজকন্যার পরনে টিয়ে রঙের শাড়ি। তার কপালের টিপটাও টিয়ে রঙের। রাজকন্যা দিঘল মায়াবী দৃষ্টি নিয়ে নদীর স্রোতের দিকে তাকিয়ে আছে। স্রোতের বিপরীতে একদল হাঁস সাঁতার কাটছে। সেই রাজকন্যার নাম- নদী। এদিকে বাস্তবের এক নদী হৃামিল্টন শহরের বুক চিরে বয়ে গেছে। নদীটার নাম ওয়াইকাটো নদী। সেই নদীর পাড়ে বসে প্রকৃতিমগ্ন কবি রাকিবুল আলম খুঁজে পায় তার বাল্যকালের নিজস্ব নদী গােমতী। কিন্তু রাকিব জানে, নিজস্ব নদী বলে কোনাে কথা নেই। নদী কারও নিজস্ব সম্পত্তি নয়। দুজন যুবক-যুবতীর একটি সরল প্রেমকে আবর্ত করে এই উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে গেছে। কিন্তু তাদের দুজনের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, পারস্পরিক চাহিদা, বাস্তব দর্শন ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশের মধ্যে বিস্তর ফারাক। তারপরও তাদের প্রেমটা গড়ে উঠেছে যেন প্রকৃতির অমােঘ নিয়মে। একদিকে প্রবাস জীবনের কঠিন বাস্তবতা, অন্যদিকে তাদের নির্মম অতীত । কিন্তু এসবের কোনােটাই তাদের প্রেমকে থামিয়ে দিতে পারেনি। ‘জোড়া সিঁথি নদীর তীরে’ উপন্যাসের প্রধান দুটো চরিত্র রাকিব ও নদী। কিন্তু তাদেরকে ছাপিয়ে কখনাে কখনাে অন্য চরিত্রগুলাে বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। এদের মধ্যে আজমল হােসেন, জাহিদ, আতিক, এমেন্ডা, প্রফেসর রজারজন, রিনেই ভাবি, জুই ও নাবিদ উল্লেখযােগ্য। তবে সবকিছু ছাপিয়ে উপন্যাসে মূল উপজীব্য হয়ে উঠেছে প্রবাস জীবনের অস্থিরতা ও শেকড়হীন প্রবাস জীবনের শেকড়হীন জীবনযাপন।