ভরা মজলিসে স্ত্রী উম্মে বেগম কুলসুমের উত্মা গলা, তাইনে। মরদ নিহি, না-মরদ…! তারপর থেকে আসকর আলী মৌলবি নিজের ভেতর নিজেকে খোঁজেন। তার ভেতরের ফসলী জমিতে বিস্তীর্ণ খরার টন। তিনি প্রায়ই পুকুরের গলা জলে নেমে ডুব দিয়ে ভেসে উঠতে উঠতে দুই হাত তুলে মধ্যরাতের আর্তনাদ করেন, ইয়া মাবুদ, আমি মরদ, আমি মরদ…! প্রত্যন্ত এক গ্রাম অনুতপুর। অনুতপুরের দুঃখ বুইদ্দার বিল। সেই অনুতপুর গ্রামের এক ভগ্নপ্রায় মসজিদের ইমাম আসকর আলী মৌলবি। তার জীবনটা এগিয়ে গেছে বিভিন্ন সামাজিক, মানসিক ও জৈবিক অবয়বের ভেতর দিয়ে। তাকে কেন্দ্র করে আরও কিছু চরিত্র ঘুরপাক খেয়েছে। তার স্ত্রী উম্মে বেগম কুলসুম তাে আছেই, পাশাপাশি তাজুল মিয়া, ছেনােয়ারা বেগম, মিজান মিয়া, সােনা কাজী, আনু মেম্বর ও একটা মরদ জিন। মরদ জিনের আবির্ভাব গ্রামের মানুষের কাছে বিরাট একটি রহস্য। অনুতপুর সহ দুই-চারদশ গ্রামের মানুষ মনে করে মরদ জিন বাঁশঝাড়ের উঁচু বাঁশটার সমান ইয়া লম্বা, কালাে কুচকুচে চেহারার ও বিশাল দেহের অধিকারী। কিন্তু আসকর আলী মৌলবি জানেন, মরদ জিন মাত্র পাঁচ ফুট পাঁচ ইঞ্চি উচ্চতার শ্যামলা ও সৌম্য চেহারার একজন পুরুষ। মূলত আসকর আলী মৌলবি ও মরদ জিনের সমান্তরাল অবস্থান নিয়েই মরদ’ উপন্যাসের কাহিনি এগিয়ে গেছে।